Saturday, December 17, 2016

গণতন্ত্র কি! ?


এটি আশ্চর্য হওয়ার কারণ। আমার জিজ্ঞাসা বিবেকবানদের দরবারে। ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যা শুনেছি এবং যা বুঝেছি, গণতন্ত্র হল গণমানুষের মতামতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করা। অবশ্য কারো মতে, জনগণকে সকল ক্ষমতার উত্স মেনে নিয়ে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাকে গণতন্ত্র বলে।
আমেরিকার ততকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন তাঁর গেটিসবার্গ এড্রেস-এ বলেছিলেন, গণতন্ত্র জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার। গণতন্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন জন বিভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, সারা বিশ্ব আজ গণতন্ত্রের প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। 
অনেকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে গণতন্ত্র বা জনগণের শাসন বলে কিছু নেই। তাদের মতে, ‘গণতন্ত্র’ একটি মুখরোচক শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়। পৃথিবীর কোথাও জনগণের শাসন আছে বলে তারা মনে করেন না। আসলে জনগণের নামে গুটিকয়েক ব্যক্তিই রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকেন বলে তাঁরা মনে করেন। জনগণের অধিকার শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ভোটের পরে শাসনকার্য পরিচালনায় জনগণের কোনো ভূমিকা আছে বলে তারা মনে করেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্র এমন একটি সরকার যেখানে প্রত্যেক সদস্যের অংশগ্রহণ রয়েছে। এ অংশগ্রহণ কথাটিও বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এখন দেখা যাক, গণতান্ত্রিক সরকার বা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কিভাবে জনগণ সরকার পরিচালনায় বা শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিস এবং রোমের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রগুলোতে অতিমাত্রায় ক্ষুদ্র আয়তন এবং স্বল্প জনসংখ্যার কারণে সভা-সমিতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি জনগণের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এটাকে প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র বলা হয়। কালের পরিক্রমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রাচীন যুগের নগর রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটেছে। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক ম্যাকিয়াভেলি ষোড়শ শতাব্দীতে আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন। এ জাতীয় রাষ্ট্রের বিশাল আয়তন এবং বিপুল জনসংখ্যাহেতু প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র সম্ভব নয়। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই জন অভিমত বা জনগণের কণ্ঠস্বর বলে মনে করা হয়। তারা নির্বাচিত হয়ে জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা করা হয়। এটাকে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলা হয়। এ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাই আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি। তবে অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি রাষ্ট্র-দার্শনিক রুশো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক সরকার বলতে নারাজ। কারণ, তিনি মনে করেন, জন প্রতিনিধিরা মূলত জনস্বার্থে কাজ না করে তাদের আত্মস্বার্থ রক্ষার্থে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তাই তিনি প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সমর্থন দিয়েছেন। যে ব্যবস্থায় জনস্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
এগুলো হল সাধারণ মতামত। অবশ্য ভিন্ন কিছু চিত্র ও আমরা দেখতে পাই, তা হল- গণ মানুষের সম্পদ দখল করার আধুনিক পদ্ধতির নাম হল গনতন্ত্র। আবার কোন কোন প্রেক্ষাপটে অর্থ দাঁড়ায় এরকম- এক বা একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বিশেষ কর্তৃক গণমানুষকে শাসন ও শোষণ করার বৈজ্ঞানিক ফর্মুলার নাম হচ্ছে গণতন্ত্র। কারো মতে, গণতন্ত্র হচ্ছে একটা ফাঁদ বিশেষ, যেখানে চতুর লোক গুলোর নিকট গণমানুষ স্রোতের ন্যায় এসে ধরা দেয় আর নিজেদের অজান্তেই তাদের খাঁচায় বন্দি হয়ে যায়।
স্বাধীন হলাম আমরা ৪৫ বছর পেরিয়ে গেল। তবুও আজ বুঝলাম না গণতন্ত্র মানে কি? গণতন্ত্র কি শুধু কাগজে কলমের সংজ্ঞা নাকি একটি অর্থবহ চর্চা? আমাদের বিবেক আজ পদদলিত। বুলেট আর বুটের চাপায় পিষ্ট আজকে আমাদের এই গণতন্ত্র। কেউ আমাদের ভাগ্য গড়ে আবার কেউবা ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এরই নাম গণতন্ত্র!! কষ্টার্জিত স্বাধীনতা আজ স্বার্থের সম্মুখে পদদলিত। আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের একটি চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হচ্ছে জনগণের দ্বারা কিন্তু না জনগণের জন্য, না জনগণের। কোথায় যাচ্ছি আমরা?
বর্তমান অবস্থাঃ
‪#‎বাই‬ ‪#‎দ্যা‬ ‪#‎পিপল্‌‬, ‪#‎ফর‬ #দ্যা ‪#‎ফ্যামিলি‬, ‪#‎এন্ড‬ ‪#‎মাইন‬ !
আর
আমাদের গনতন্ত্রের সংজ্ঞা হবে , "জনগনের জন্য গণতন্ত্র -গনতন্ত্রের জন্য জনগন নয়।"
আমরা বাঙ্গালি এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত অনেক আগে থেকেই। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের জনগনের ৭৫% বিশ্বাস গণতন্ত্র মানে আমাদের ভোটাধিকার। গণতন্ত্র মানে আর অন্য কিছু বুঝতে চায় না। তবে কি গণতন্ত্র শুধু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষমতা। আর সেই ভোট বা ক জন ঠিক মত দিতে পারছে।
আমার প্রশ্ন হল বাংলাদেশ কি গণতান্ত্রিক দেশ? এখানে কি গণতন্ত্র আছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের সংজ্ঞাই বা কি? বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আদৌ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে কি? গণতন্ত্র কি পূর্ণাঙ্গ কোন জীবনাদর্শ? জ্ঞানের ক্ষেত্রে এমন কি নৈতিকতার ক্ষেত্রে ও গণতান্ত্রিক পন্থাই গৃহীত হবে? বেশীরভাগ মানুষ যদি সত্যকে মিথ্যা বলে, তবে বাকিরাও সেটি মানতে বাধ্য হবে? বেশী সংখ্যক মানুষ যদি কম সংখ্যক মানুষকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়, গণতন্ত্র নামে তাও কি বৈধ হবে?
প্রতিদিন ডানে গণতন্ত্র, বামে গণতন্ত্র, টিভি টকশোতে গণতন্ত্র, সংবাদ পত্রে গণতন্ত্র, কোথাও জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র, আবার কোথাও শুনি অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র, সম্প্রতি অবশ্য ইসলামি গণতন্ত্রের কথাও শোনা যায়। আমরা জানি না গণতন্ত্র আসলে কি! আমরা বুঝতে অক্ষম এটা দিয়ে কি হয়? শুধু দেখি গণতন্ত্রের নামে কেউ আগুন জ্বালায়, গাছ উপড়ে ফেলে, ভাংচুর করে, একে অপরের মাথা ফাটায়, রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আবার গণতন্ত্র নামে কেউ মানুষ পেটায়, ঘর থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে, বিনা অপরাধে মানুষকে বন্দি করে, গ্রেফতার বানিজ্য ও করে, পাখির মত গুলি করে মানুষ মারে।

0 Comments:

Post a Comment

Subscribe to Post Comments [Atom]

<< Home